অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড খোলা নিয়ে চরম উত্তেজনার পর কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানান আইনজীবী কিশোর দত্ত। কিন্তু দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করলেন বিচারপতি।
প্রাইম ইনসাইট ডিজিটাল ডেস্ক: অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড খোলা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয়ের ছাদ থেকে বিতর্কিত হোর্ডিং ও ব্যানার নামানোকে কেন্দ্র করে সরগরম কলকাতা। বিষয়টির প্রশাসনিক গতিপ্রকৃতি এবং আইনি বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় পৌঁছেছে ঘাসফুল শিবির।
অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড খোলা মামলায় জরুরি শুনানি খারিজ আদালতের
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর সিঙ্গল বেঞ্চে আইনি আবেদন পেশ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কিশোর দত্ত। তিনি আদালতকে জানান, কোনও প্রকার বৈধ অনুমতিপত্র বা লিখিত নোটিস দেওয়া ছাড়াই প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে অফিসে প্রবেশ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আদালতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানানো হয়।
তবে সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আদালত নির্দিষ্ট আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া কাজ করবে না। মামলা দায়ের করার অনুমতি দেওয়া হলেও অতি-জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন খারিজ করেন তিনি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়ম মেনে প্রথমে মামলা রেজিস্টার বা নথিভুক্ত করতে হবে। রেজিস্টার্ড হওয়ার পর নতুন করে এজলাসে বিষয়টি উল্লেখ (Mention) করলে শুনানির সময় নির্ধারণ করবে বেঞ্চ।
ক্যামাক স্ট্রিট কার্যালয়ে পুলিশ ও পুরসভার যৌথ অভিযান
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয়ে এক অভূতপূর্ব অভিযান চালায় কলকাতা পুরসভা (KMC) ও কলকাতা পুলিশ। পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের দাবি, কার্যালয়ের শীর্ষে বসানো তৃণমূলের বিশাল আকৃতির বিলবোর্ডটি বেআইনি এবং তা অপসারণের নির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে।
| ঘটনার বিবরণ | বিবরণী ও তথ্য |
| ঘটনা স্থান | ৯, ক্যামাক স্ট্রিট, কলকাতা (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর) |
| মূল অভিযোগ | বেআইনি বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক বিলবোর্ড স্থাপনের দায়ে অপসারণ |
| উদ্যোক্তা সংস্থা | কলকাতা পুরসভা (KMC) ও কলকাতা পুলিশ যৌথ বাহিনী |
| আদালতের অবস্থান | দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ, স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া পালনের নির্দেশ |
অভিযান চলাকালীন পুরকর্মী ও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন সমর্থকেরা। অভিষেকের নিরাপত্তা কর্মী ও অনুগামীরা সিঁড়িতে অবস্থান নিলে ধস্তাধস্তি চরমে ওঠে। এই টানাপোড়েনের মাঝে সিঁড়িতে পড়ে যান তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। শেষ পর্যন্ত হেলমেট পরিহিত পুলিশ বাহিনী ভবনের ছাদের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং গ্যাস কাটার ব্যবহার করে হোর্ডিংটি কেটে নামায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চত্বর থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’: পাল্টা সুর চড়ালেন অভিষেক
পুরসভা ও পুলিশের এই ভূমিকাকে সরাসরি “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে তোপ দেগেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিরুদ্ধ রাজনৈতিক মতামতকে দমন করতেই রাজ্য প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিষেক সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রশ্ন তোলেন, “কোনও ছবি বা নির্দিষ্ট নোটিস ছাড়াই কীভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন অফিসে এভাবে জোরপূর্বক ঢোকা যায়? ক্যামাক স্ট্রিট জুড়ে শয়ে শয়ে অননুমোদিত বিলবোর্ড থাকা সত্ত্বেও কেন বেছে বেছে এই অফিসে অভিযান চালানো হলো?”
আইনজীবী কিশোর দত্তের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে পুনরায় হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। উচ্চ আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব কোন দিকে মোড় নেবে। আইনি খবরের আপডেট পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন কলকাতা হাইকোর্টের অফিশিয়াল পোর্টাল-এ।

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।
