প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে পছন্দ দেশবাসীর? প্রথম স্থানে এখনও নরেন্দ্র মোদী এবং দ্বিতীয় স্থানে রাহুল গান্ধী। তবে সাম্প্রতিক সর্বভারতীয় জনমত সমীক্ষায় তৃতীয় স্থান দখল করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের চমকে দিয়েছেন তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় তারকা-রাজনীতিবিদ চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়]।
প্রাইম ইনসাইট ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে পছন্দ—এই প্রশ্ন সামনে রেখে দেশজুড়ে পরিচালিত হয়েছিল এক বিশাল জনমত সমীক্ষা। ইন্ডিয়া টুডে এবং সি-ভোটার (India Today-CVoter Mood of the Nation)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। দেশের মানুষের পছন্দের তালিকায় প্রথম দুটি স্থানে প্রথাগত ও অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা থাকলেও, তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন এক রুপোলি পর্দার তারকা, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল গঠন করে প্রত্যক্ষ ময়দানে নেমেছেন|
এক নজরে শীর্ষ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট
- শীর্ষে নরেন্দ্র মোদী: ৪৮.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ভারতের সর্বপ্রধান জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান অটুট রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
- দ্বিতীয় স্থানে রাহুল গান্ধী: ২৭.১ শতাংশ দেশবাসীর সমর্থনে প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে নিজের আসন শক্ত করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।
- তৃতীয় স্থানে বিজয়ের চমক: ৯.২ শতাংশ ভোট পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে পেছনে ফেলে তিন নম্বর স্থান ছিনিয়ে নিয়েছেন তামিল অভিনেতা জোসেফ বিজয়।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থ: মাত্র ২ শতাংশ মানুষের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর দৌড়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
- বৃহৎ সমীক্ষার ভিত্তি: প্রায় ১.১৬ লাখের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে এই জাতীয় সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে পছন্দ: ভোটের শতাংশ ও রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ ভারতের কোনও নেতার এত দ্রুত সর্বভারতীয় স্তরে প্রভাব ফেলা অত্যন্ত অর্থবহ। সমীক্ষা অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই নিজের জনপ্রিয়তা রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন তামিলাগা ভেত্রি কাজাঘম (TVK)-এর প্রধান চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়।
| র্যাঙ্ক | নেতা/নেত্রীর নাম | দল/অঞ্চল | সমর্থন (%) |
|---|---|---|---|
| ১ | নরেন্দ্র মোদী | বিজেপি (BJP) | ৪৮.৭% |
| ২ | রাহুল গান্ধী | কংগ্রেস (INC) | ২৭.১% |
| ৩ | চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় | টিভিকে (TVK) | ৯.২% |
| ৪ | মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | তৃণমূল (AITC) | ২.০% |
| ৫ | অখিলেশ যাদব | সমাজবাদী পার্টি (SP) | ১.৭% |
| ৬ | অভিজিৎ দীপকে | ককরোচ জনতা পার্টি (KJP) | ১.৩% |
| ৭ | অরবিন্দ কেজরিওয়াল | আপ (AAP) | ১.২% |
বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও কি উঠে আসছে নতুন মুখ?
প্রশ্ন শুধু এটিই নয় যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে পছন্দ; বরং কেন্দ্রবিরোধী প্রধান অক্ষে কার গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি, তাও এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে। বিরোধী জোটের সম্ভাব্য প্রধান মুখ বা নেতা হিসেবে এখনও দেশবাসীর প্রথম পছন্দ রাহুল গান্ধী (২৯ শতাংশ ভোট)। তবে এই তালিকাতেও ১২.২ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিজয়। অপরদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৮.৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় এবং আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল ৭.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন।
“দক্ষিণ ভারতের রাজনীতির ইতিহাস বলছে, রূপোলি পর্দার তারকারা রাজনীতিতে এসে প্রশাসনিক ক্ষমতা দখল করেছেন বহুবার। কিন্তু জাতীয় স্তরে প্রধানমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে এত দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।”
আপনি মূল জনমত সমীক্ষার আরও বিশদ বিশ্লেষণ জানতে ভিজিট করতে পারেন India Today Group Official Website।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. সমীক্ষা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে পছন্দ দেশবাসীর প্রথম স্থানে?নরেন্দ্র মোদী। তিনি ৪৮.৭ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়ে তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন।
২. প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে পছন্দ প্রশ্নের জবাবে সুপারস্টার বিজয় কত নম্বর স্থানে আছেন?চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় ৯.২ শতাংশ সমর্থন পেয়ে চমকপ্রদভাবে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
৩. সমীক্ষায় মোট কত সংখ্যক মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল?সরাসরি ২৫,১৮৪ জন এবং ট্র্যাকড ৯১,৭৯৫ জন—মোট ১,১৬,৯৭৯ জন নাগরিকের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।
