India Womens Team মহসিন নকভিকে বয়কট করে মহিলাদের এশিয়া কাপের ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বজায় রাখল। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তৈরি হলো নতুন ইতিহাস।
India Womens Team মহাদেশীয় ক্রিকেটের মঞ্চে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হলেও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হলো নজিরবিহীন বিতর্ক। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিল India Womens Team। বিসিসিআই-এর পূর্ববর্তী নীতিগত অবস্থানকে স্পষ্ট সমর্থন জানিয়ে সূর্যকুমার যাদবদের পুরুষ দলের পথেই হাঁটল ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) যে অবস্থান নিয়েছিল, তা থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেনি দেশের মহিলা ক্রিকেটাররা। ফাইনালে মাঠের খেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে জয়ী হলেও, পুরস্কার প্রদান মঞ্চকে পুরোপুরি বয়কট করে নিজেদের প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছে দলটি।

স্টেডিয়ামে নকভির আচমকা উপস্থিতি ও জল্পনা
খেলার শুরুর দিকে ডাম্বুলার ভিআইপি বক্সে মহসিন নকভির উপস্থিতি দেখা যায়নি। পাকিস্তান ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি মাঠে নাও আসতে পারেন বলে ধারণা করেছিলেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কিন্তু ম্যাচের অন্তিম লগ্নে বিসিসিআই প্রতিনিধি দেবজিৎ সাইকিয়া এবং রাজীব শুক্লার ঠিক পেছনে তাঁর উপস্থিতি নজর কাড়ে।
মহসিন নকভি গ্যালারিতে উপস্থিত হতেই উপস্থিত সংবাদমাধ্যম ও ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়। কারণ পুরুষদের এশিয়া কাপেও ঠিক একই ধরনের কূটনৈতিক জটিলতা দেখা গিয়েছিল। নকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার যে পূর্ব সিদ্ধান্ত ছিল, তা নিয়ে India Womens Team কতটা অটল থাকবে—তা নিয়ে তৈরি হয় জোর আলোচনা।
ট্রফি প্রদান ছাড়া শেষ অনুষ্ঠান: নীরবে প্রস্থান এসিসি প্রধানের
ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পর পুরস্কার বিতরণী পর্ব শুরু হলেও দৃশ্যপট বদলায়নি। রানার্স-আপ দল শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর হাতে সম্মাননা মেডেল ও রানার্স-আপ চেক তুলে দেওয়ার পরপরই সঞ্চালক পারভেজ মাহরুফ হঠাৎ করেই অনুষ্ঠান সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
মঞ্চের ধারেকাছেও দেখা যায়নি India Womens Team-এর অধিনায়িকা হরমনপ্রীত কৌর কিংবা দলের কোনো প্রতিনিধিকে। চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি তুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এসিসি-র অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নীরবে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন মহসিন নকভি।
ড্রেসিংরুমে ভিন্ন উদযাপনে মাতল ভারত
সরকারি পুরস্কার বিতরণী মঞ্চ বয়কট করলেও শিরোপা জয়ের আমেজ বিন্দুমাত্র কমেনি ভারতীয় শিবিরে। মূল মাঠ থেকে কিছুটা দূরে সম্পূর্ণ নিজেদের মতো করে জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে India Womens Team। দলের প্রধান কোচ অমল মজুমদারকে ঘিরে উল্লাস প্রকাশ করেন খেলোয়াড়রা।
মঞ্চে ট্রফি না পেলেও বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে ড্রেসিংরুম সংলগ্ন এলাকাতেই খেলোয়াড়দের পদক পরিয়ে দেওয়া হয়। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ও সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা নিজ হাতে খেলোয়াড়দের গলায় স্বর্ণপদক তুলে দেন। টুর্নামেন্টের সেরা ফিল্ডারের সম্মান পাওয়া নন্দিনী শর্মাকেও বিশেষ পদক দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোচ অমল মজুমদার সাফ জানান, “বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে দল শতভাগ একমত। আমরা মাঠে পারফর্ম করতে এসেছি এবং রেকর্ড বুকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে India Womens Team-এর নামই লেখা থাকবে। ট্রফি ড্রেসিংরুমে এলো কি এলো না, তাতে আমাদের জয় ছোট হয়ে যায় না।”
ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রভাব ক্রীড়াঙ্গনে
পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসী হামলা এবং ক্রমাগত সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তানের ক্রীড়া সম্পর্কে শীতলতা বিরাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। পিসিবি বা পাকিস্তান সরকারের কোনো কর্মকর্তার সাথে আনুষ্ঠানিক কোনো আদান-প্রদানে অংশ না নেওয়ার নীতি বজায় রেখেছে ভারতীয় বোর্ড।
ESPNcricinfo-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগেও পুরুষ দল এশিয়া কাপ জেতার পর ট্রফি গ্রহণ করেনি, যার ফলে সেই ঐতিহাসিক ট্রফি আজও বিসিসিআই কার্যালয়ে পৌঁছায়নি। এবার India Womens Team-এর এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, খেলাধুলার মঞ্চ হলেও জাতীয় নীতি ও আবেগের প্রশ্নে ভারতীয় ক্রিকেট কোনো আপস করতে রাজি নয়।

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।
