Breaking
16 Sep 2026, Wed

চীনের নতুন কৃত্রিম সূর্য প্রজেক্টে China built 582-ton magnet to control plasma hotter than 100 million°C, যা প্লাজমা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। বিস্তারিত জানুন Prime Insight-এ।

China built 582-ton magnet to control plasma hotter than 100 million°C, যা পারমাণবিক ফিউশন শক্তি (Nuclear Fusion Energy) তৈরির গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। চীনের হেফেই শহরের ‘ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স’ (ASIPP)-এর বিজ্ঞানীরা একটি বিশাল শক্তিশালী সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট বা বিদ্যুৎ-চুম্বক তৈরি ও সফলভাবে পরীক্ষা করেছেন। চীনের পরবর্তী প্রজন্মের ‘কৃত্রিম সূর্য’ বা ‘BEST’ (Burning Plasma Experimental Superconducting Tokamak) প্রজেক্টের জন্য ২১ মিটার দীর্ঘ এই দানবীয় চুম্বকটি তৈরি করা হয়েছে।

A design diagram of the superconducting magnets used in the Tokamak reactor
টোকা মাক রিঅ্যাক্টরে ব্যবহৃত সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটের একটি নকশা চিত্র. Source: ResearchGate

কেন দরকার এই বিশাল চুম্বক?

সূর্যের কেন্দ্রে যে প্রক্রিয়ায় আলো ও তাপ তৈরি হয়, তাকে ফিউশন বিক্রিয়া বলা হয়। পৃথিবীতে এই প্রক্রিয়া চালু করতে হাইড্রোজেন গ্যাসকে ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উত্তপ্ত করতে হয়, যা সূর্যের কেন্দ্রের চেয়েও প্রায় ৬ গুণ বেশি গরম।

এত উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাস পরমাণু ভেঙে ‘প্লাজমা’ (Plasma) অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। পৃথিবীর কোনো কঠিন পাত্র বা ধাতু এই চরম তাপমাত্রার প্লাজমাকে স্পর্শ করলে নিমেষেই গলে যাবে। তাই প্লাজমাকে পাত্রের দেয়াল স্পর্শ করতে না দিয়ে শূন্যে ভাসিয়ে রাখতে একটি অদৃশ্য শক্তিশালী “চৌম্বকীয় খাঁচা” (Magnetic Cage) প্রয়োজন হয়।

চুম্বকের গঠন ও বিজ্ঞানের সহজ ব্যাখ্যা

China built 582-ton magnet to control plasma hotter than 100 million°C যা বিশেষ কুণ্ডলী বা ‘টোরোইডাল-ফিল্ড কয়েল’ হিসেবে কাজ করে।

  • শূন্য বিদ্যুৎ প্রতিরোধ: সাধারণ তামার তারে বিদ্যুৎ পাঠালে তা গরম হয়ে শক্তি অপচয় করে। কিন্তু এই চুম্বকে ব্যবহৃত হয়েছে বিশেষ সুপারকন্ডাক্টিং অ্যালয় (যেমন নাইওবিয়াম-টিন এবং নাইওবিয়াম-টাইটেনিয়াম)।

  • অতি-শীতল অবস্থা: এই চুম্বককে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করে মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (-269°C) ঠাণ্ডা রাখা হয়। এতে কোনো বিদ্যুৎ অপচয় ছাড়াই বিশাল মাত্রার চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) তৈরি করা সম্ভব হয়।

  • প্রচণ্ড শক্তির নিয়ন্ত্রণ: এই চুম্বকটি ফরাসি আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট ‘ITER’-এর ম্যাগনেটের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বেশি চৌম্বক শক্তি ধরে রাখতে পারে।

ভবিষ্যতের শক্তির উৎস

কয়লা বা পেট্রোলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পরিবেশ দূষণ করে, আর প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয়। কিন্তু কৃত্রিম সূর্যের এই ফিউশন শক্তি সম্পূর্ণ কার্বন-মুক্ত এবং এর উপাদান পাওয়া যায় সমুদ্রের পানি থেকে।

চীন আশা করছে ২০২৭ সালের মধ্যে ‘BEST’ চুল্লির নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই কৃত্রিম সূর্য থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

গবেষণাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক তথ্যের জন্য World Nuclear Association-এর প্রতিবেদন দেখতে পারেন।

By Tanmay

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।

Leave a Reply

Enable Notifications No Allow