Russia India Train Proposal নিয়ে তোলপাড়। রাশিয়া ভারত ট্রেন রুট কোন কোন দেশের উপর দিয়ে যাবে এবং কীভাবে বাণিজ্য সুবিধা বাড়বে? বিশদে জানুন।
সংবাদ ডেস্ক: বিমান বা সমুদ্রপথ নয়, এবার সরাসরি স্থলপথে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে চায় মস্কো। বহু আলোচিত Russia India Train Proposal বা রাশিয়া-ভারত রেল সংযোগ প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় পণ্য পরিবহণের পথ সুগম করতেই এই উদ্যোগ নিতে চলেছে রাশিয়া। তবে প্রাথমিক প্রস্তাব পেশ হলেও প্রস্তাবিত রাশিয়া ভারত ট্রেন রুট সংক্রান্ত পরিকল্পনাটি এখনও আলোচনার স্তরেই রয়েছে।
রুশ সংবাদ সংস্থা TASS-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন (Marat Khusnullin) এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন।
কেন এই Russia India Train Proposal আনল মস্কো?
উপপ্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান সামুদ্রিক জলপথগুলির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
-
জলপথের ঝুঁকি: লোহিত সাগর, বসফরাস এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে প্রতিনিয়ত যে বৈশ্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, তাতে বিকল্প সড়ক ও রেলপথের গুরুত্ব বাড়ছে।
-
জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষা: বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) ২০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহণ করা হয়। ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্যে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে তা এড়াতেই রাশিয়া থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত নিরাপদ বিকল্প স্থলপথের কথা ভাবা হচ্ছে।
কেমন হতে পারে সম্ভাব্য রাশিয়া ভারত ট্রেন রুট?
রাশিয়ার প্রস্তাবিত রাশিয়া ভারত ট্রেন রুট মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে পারে:
সাধারণ যাত্রীদের জন্য ট্রেনের তথ্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই Russia India Train Proposal নিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের জল্পনা তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে:
-
যাত্রীবাহী সেবা নয়: এটি প্রাথমিকভাবে পণ্য ও বাণিজ্যিক মালপত্র পরিবহণের (Freight Corridor) উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত।
-
কোনো টিকিটিং ব্যবস্থা নেই: এখনই কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন, রুটের চালুর তারিখ বা টিকিটের দাম নির্ধারণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রকল্পটির মূল অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ
কাগজে-কলমে রাশিয়া ভারত ট্রেন রুট অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও এটি বাস্তবে নির্মাণ করা অত্যন্ত কঠিন:
-
কূটনৈতিক সমস্যা: আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালনা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
-
বিপুল খরচ ও সময়: একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার নতুন ট্র্যাক তৈরি ও পুরনো রেলব্যবস্থার আধুনিকীকরণ অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ।
-
শুল্ক ও আইনি সমন্বয়: বিভিন্ন দেশের রাজস্ব, শুল্কনীতি ও রেলওয়ে নিরাপত্তার মধ্যে সামঞ্জস্য আনা জটিল প্রক্রিয়া।
ভারতের বাণিজ্যিক সুবিধা ও প্রভাব
যদি শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্প সফল হয়, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে:
-
রাশিয়ার সস্তা খনিজ ও জ্বালানি দ্রুত সরাসরি ভারতের বাজারে এসে পৌঁছবে।
-
মধ্য এশিয়ায় ভারতীয় পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি পাবে।
-
বিদ্যমান ‘আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর’ (INSTC)-এর পাশাপাশি ভারতের কাছে বিকল্প স্থল বাণিজ্যের হাত খুলে যাবে।
সামুদ্রিক ঝুঁকি এড়িয়ে রাশিয়ার এই প্রস্তাব প্রমাণ করে—আগামী দিনে ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে কৌশলগত স্থলপথই প্রধান অগ্রাধিকার হতে চলেছে।

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।
