Breaking
15 Sep 2026, Tue

Ukraine Porn Industry Legalisation: যুদ্ধের তহবিলে টাকা তুলতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার পথে ইউক্রেন

Ukraine Porn Industry Legalisation

Ukraine Porn Industry Legalisation নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কিয়েভ। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে পর্নোগ্রাফি শিল্প আইনি করে কর আদায়ের বিল পাস করছে জেলেনস্কি সরকার।

কিয়েভ: Ukraine Porn Industry Legalisation বা ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি শিল্পকে আইনি বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘ সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পর ইউক্রেনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। ফ্রন্টলাইনে সেনাসদস্যদের প্রতিরক্ষার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার ড্রোন, গোলাবারুদ ও প্রযুক্তিগত সামরিক সরঞ্জাম প্রয়োজন। অথচ সরকারি কোষাগার শূন্য। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ তহবিল গঠন এবং সামরিক খরচ জোগাতে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন বাজারকে আইনি কাঠামোর অধীনে এনে কর আদায়ের অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট।

কেন আইনি সংস্কারের পথে হাঁটছে কিয়েভ?

ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন শিল্প বৈধ হলেও, ইউক্রেনে সাবেক সোভিয়েত আমলের পুরনো আইনের কারণে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। বিদ্যমান ফৌজদারি আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পর্ন কন্টেন্ট তৈরি বা বিতরণের অভিযোগে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে অনলাইনের সাহায্যে বিশাল একটি অনানুষ্ঠানিক পর্ন ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ‘ভারখোভনা রাদা’-তে এ সংক্রান্ত আইন সংশোধনী বিল ইতোমধ্যে প্রথম পাঠে পাস হয়েছে। নতুন বিলের প্রধান দিকগুলো হলো:

  • শিশু পর্নোগ্রাফি, সম্মতি ছাড়া তোলা ছবি/ভিডিও (রিভেঞ্জ পর্ন) এবং চরম সহিংস কন্টেন্টের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করা হবে।

  • প্রাপ্তবয়স্কদের স্বেচ্ছায় ও সম্মতিক্রমে তৈরি ওয়েবক্যাম, মডেলিং এবং কন্টেন্ট তৈরিকে আইনি স্বীকৃতি দিয়ে অপরাধমুক্ত (Decriminalize) করা হবে।

অর্থনৈতিক হিসাব: পর্ন ট্যাক্স থেকে কেনা হবে ৩০,০০০ ড্রোন

Ukraine Porn Industry Legalisation বিলটির মূল প্রস্তাবক হলেন ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক (Yaroslav Zheleznyak)।

বিবরণ আনুমানিক হিসাব / তথ্য
বার্ষিক সম্ভাব্য কর রাজস্ব প্রায় ২.৫ কোটি ডলার ($25 Million)
সামরিক ড্রোন ক্রয়ক্ষমতা প্রায় ৩০,০০০ এফপিভি (FPV) কমব্যাট ড্রোন
OnlyFans থেকে ইউক্রেনীয়দের আয় ৭,৯০০ জন ক্রিয়েটর আয় করেছেন ১৩.১ কোটি ডলার
পুরনো আইনে শাস্তি ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড

এমপি জেলেজনিয়াক বলেন, “আমাদের হাজার হাজার নাগরিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। তারা কর দিতে চাইলেও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে পারছেন না। যদি তারা কর দেন, তবে পর্নোগ্রাফি আইনের অধীনে গ্রেপ্তার হতে পারেন; আবার কর না দিলে কর ফাঁকির মামলা হতে পারে। এই হাস্যকর ও ট্র্যাজিক পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে এটিকে বৈধ করলে সরকার প্রায় ২.৫ কোটি ডলার রাজস্ব পাবে, যা দিয়ে সেনার জন্য ৩০,০০০ নতুন ড্রোন কেনা সম্ভব।”

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্ট বিশ্লেষণ দেখতে পড়ুন The Wall Street Journal-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের অর্থনৈতিক হালনাগাদ জানতে ভিজিট করুন Ukraine Government Official Portal

পুলিশি দুর্নীতি ও ক্রিয়েটরদের আইনি সুরক্ষা

আইনপ্রণেতাদের মতে, আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে এই শিল্প বন্ধ তো হয়নি, বরং দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসাররা গোপন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করত।

একই সঙ্গে, OnlyFans-এর মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করা ক্রিয়েটরদের ওপর পুলিশি হয়রানি চরমে পৌঁছেছিল। বিলটি দ্বিতীয় পাঠে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ক্রিয়েটররা আইনি সুরক্ষা পাবেন এবং তারা যে আয়কর দেবেন তা সরাসরি রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটে জমা হবে।

নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সামরিক প্রয়োজনীয়তা

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসন এ সংস্কার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে সামরিক সহায়তার গতি কিছুটা ধীর হওয়ায় ইউক্রেনকে নিজেদের অস্ত্র কেনার প্রয়োজনীয় অর্থ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেই জোগাড় করতে হচ্ছে।

Ukraine Porn Industry Legalisation বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়ে আইনে পরিণত হলে, আধুনিক সামরিক ইতিহাসে পর্নোগ্রাফির করের টাকায় ফ্রন্টলাইনের যুদ্ধের ড্রোন কেনার এটিই হবে প্রথম দৃষ্টান্ত।

By Tanmay

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।

Leave a Reply

Enable Notifications No Allow