Cockroach Milk Benefits জানা থাকলে চমকে যাবেন! প্যাসিফিক বিটল ককরোচ-এর দুধ গরুর দুধের চেয়ে ৩ গুণ বেশি পুষ্টিকর। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ২০২৬ আইজি নোবেল জয়। বিস্তারিত পড়ুন।
Cockroach Milk Benefits বা আরশোলার দুধের অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন তোলপাড়। সাধারণ মানুষ আরশোলা দেখলে দূর দূর করলেও বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ সত্য। ২০২৬ সালে সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখে আয়োজিত ৩৬তম আইজি নোবেল (Ig Nobel Prize 2026) অনুষ্ঠানে রসায়ন বিভাগে এই বিশেষ গবেষণাকে দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্মাননা। ভারত, ফ্রান্স, জাপান এবং আমেরিকার ১১ জন গবেষকের সমন্বয়ে গঠিত দলটির এই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বিশ্বমঞ্চে ভারতের নাম আরও একবার উজ্জ্বল করেছে।
Cockroach Milk Benefits: কী এই আরশোলার দুধ এবং কীভাবে তৈরি হয়?

বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ ঘরের আরশোলা দুধ দেয় না। এই বিশেষ দুধ পাওয়া যায় প্যাসিফিক বিটল ককরোচ (বৈজ্ঞানিক নাম: Diploptera punctata) থেকে। অধিকাংশ আরশোলা প্রজাতি ডিম পাড়লেও এই প্রজাতি একমাত্র জরায়ুজ (Viviparous), অর্থাৎ সরাসরি সন্তানের জন্ম দেয়।
গর্ভাবস্থায় মায়ের ব্রূড স্যাক (Brood Sac) বা জরায়ু থেকে এক ধরণের তরল নিঃসৃত হয়। সন্তানরা তা পান করার পর ভ্রূণের পাকস্থলীতে গিয়ে তা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রোটিন ক্রিস্টাল বা ক্রিস্টালাইনে পরিণত হয়। এই ক্রিস্টালই হলো আরশোলার দুধের মূল উপাদান।
গরুর দুধের চেয়ে ৩ গুণ বেশি শক্তি: Cockroach Milk Benefits

গবেষণায় দেখা গেছে, আরশোলার দুধের প্রোটিন ক্রিস্টালে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
-
উচ্চ শক্তি ঘনত্ব: সমপরিমাণ গরুর দুধের তুলনায় এতে ৩ গুণেরও বেশি শক্তি (Calories) বিদ্যমান।
-
সম্পূর্ণ খাদ্য উপাদান: এতে রয়েছে সুষম প্রোটিন, অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং কার্বোহাইড্রেট।
-
নিয়মিত নিউট্রিশন রিलीज: ক্রিস্টালগুলো শরীরে প্রবেশ করলে তা খুব ধীরে ধীরে প্রোটিন ও পুষ্টি নির্গত করে, যা দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি জোগাতে সক্ষম।
| বৈশিষ্ট্যের তুলনা | গরুর দুধ (Cow Milk) | আরশোলার দুধের ক্রিস্টাল (Cockroach Milk) |
| শক্তির মাত্রা | সাধারণ | ৩ গুণেরও বেশি (Tripled Energy) |
| গঠন | তরল | ক্রিস্টাল প্রোটিন (Liquid to Crystal) |
| উৎস | গবাদি পশু | প্যাসিফিক বিটল ককরোচ |
| লাইপোপ্রোটিন ও সুগার | সাধারণ অনুপাত | অত্যন্ত সুসংগঠিত স্ট্রাকচারাল লাইপোক্যালিন |
ভারতীয় বিজ্ঞানীদের সাফল্য ও ২০২৬ সালের আইজি নোবেল
এই ঐতিহাসিক গবেষণার মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল বেঙ্গালুরুর ইনস্টিটিউট ফর স্টেম সেল সায়েন্স অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিন (instem)-এ। ভারতীয় বিজ্ঞানী প্রফেশনাল রামস্বামী সুব্রহ্মণ্যম, সঞ্চারী ব্যানার্জি, নীতিশ সত্যনারায়ণ, জণ্ড্যম শ্রীকান্ত এবং তাঁদের আন্তর্জাতিক সহকর্মীরা এই স্ট্রাকচারাল বায়োলজি গবেষণা সম্পন্ন করেন।
সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে রামস্বামী সুব্রহ্মণ্যম (বর্তমানে পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক), লিওনার্ড ‘লিও’ চাভাস এবং নাথান কাউসেন্স ট্রফি গ্রহণ করেন। আইজি নোবেল মূলত এমন সব আবিষ্কারকে সম্মান জানায়, যা “প্রথমে মানুষকে হাসায় বা অবাক করে, এবং পরে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে”।
মানুষ কি সত্যিই আরশোলার দুধ খেতে পারবে?
প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে কি ভবিষ্যতে বাজারে আরশোলার দুধ কিনতে পাওয়া যাবে? উত্তর হলো—একদমই নয়।
১. উৎপাদন জটিলতা: এক গ্লাস দুধ তৈরি করতে হাজার হাজার আরশোলা হত্যা করে ক্রিস্টাল বের করতে হবে, যা বাণিজ্যিকভাবে অসম্ভব।
২. মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: পোকার দুধ পানের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে মানসিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
৩. বিজ্ঞানীদের বিকল্প পরিকল্পনা: বিজ্ঞানীরা বর্তমানে বায়ো-প্রসেসিং এবং ইস্ট (Yeast) কালচারের মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম উপায়ে এই প্রোটিন সিকোয়েন্স তৈরি করার গবেষণা চালাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায়।
প্রয়োজনীয় লিংক:
-
ভারত এবং বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান গবেষণার নিত্যনতুন আপডেট দেখতে আমাদের Prime Insight Home পেজে ভিজিট করুন।
-
আইজি নোবেল অ্যাওয়ার্ডের আন্তর্জাতিক অফিসিয়াল ঘোষণার জন্য Annals of Improbable Research ওয়েবসাইট পরিদর্শন করতে পারেন।

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।
