Breaking
16 Sep 2026, Wed

অরিজিৎ সিংয়ের অনুরাগী: ২০০ কিমি সাইকেল চালিয়ে জিয়াগঞ্জের পথে মালদার গণেশ

অরিজিৎ সিংয়ের অনুরাগী গণেশ শেখ সাইকেল নিয়ে জিয়াগঞ্জের পথে

প্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের দেখা পেতে ২০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিলেন মালদহের তরুণ গণেশ শেখ। পড়ুন বিস্তারিত।

প্রাউড ইনসাইট ডেস্ক: অরিজিৎ সিংয়ের অনুরাগী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে অসাধ্য সাধনে মেতেছেন উত্তরবঙ্গের এক সাধারণ তরুণ। প্রিয় তারকাকে সামনাসামনি একঝলক দেখা এবং একটি স্মরণীয় ছবি তোলার তাগিদে ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ সাইকেল চালিয়ে অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মালদহ জেলার বামনগোলা থেকে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমী সফর এখন নেটপাড়া থেকে শুরু করে দুই জেলার মানুষের প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তীব্র গরম আর শারীরিক ক্লান্তি কোনো কিছুই দমাতে পারেনি মালদহের জামতলা এলাকার বাসিন্দা বাইশ বছরের যুবক গণেশ শেখকে। শৈশব থেকেই সুরসম্রাট অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠের ভক্ত তিনি। গায়কের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকেই এই রোমাঞ্চকর অভিযানের পরিকল্পনা।

এক সফর, এক স্বপ্ন: একটি পোস্টার ও জাতীয় পতাকা

রবিবার ভোর চারটে নাগাদ যখন পুরো গ্রাম ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই নিজের পুরানো সাইকেলটি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন গণেশ। গন্তব্য—মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের বাসভবন।

সাইকেলের সামনে হ্যান্ডেলের সঙ্গে ঝুলছে হাতে লেখা একটি পোস্টার, যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তাঁর হৃদয়ের আকুতি। সেখানে লেখা রয়েছে— ‘এক সফর, এক স্বপ্ন, এক মুলাকাত- ২০০ কিমি সাইকেল যাত্রা। অরিজিৎ সিং স্যরের সঙ্গে দেখা করার জন্য।’ সাইকেলের একপাশে সসম্মানে ওড়ানো হয়েছে ভারতের জাতীয় পতাকা।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বাবা বিজয় শেখ ও মা মৌসুমী শেখের সাত সন্তানের সংসারে গণেশ দ্বিতীয়। চরম অর্থনৈতিক অনটনের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তাঁর খুব বেশি হয়নি; কেবল চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পেরেছেন তিনি। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হলেও তাঁর মানসিক জোর ও স্বপ্নের পরিধি আকাশছোঁয়া।

ফরাক্কা হয়ে জিয়াগঞ্জের দীর্ঘ রুট

সাধারণত সড়কপথে মালদহ থেকে জিয়াগঞ্জের দূরত্ব কিছুটা কম হলেও ঘুরপথে ফরাক্কা হয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে এই তরুণকে। সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ ফরাক্কার বিডিও অফিসের সামনে পৌঁছান তিনি। কড়া রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে কিছুটা ক্লান্ত দেখালেও তাঁর চোখের দৃষ্টিতে ছিল অদম্য উৎসাহ।

অরিজিৎ সিংয়ের টানে ২০০ কিমি সাইকেল চালিয়ে জিয়াগঞ্জে পৌঁছলেন মালদহের গণেশ
অরিজিৎ সিংয়ের টানে ২০০ কিমি সাইকেল চালিয়ে জিয়াগঞ্জে পৌঁছলেন মালদহের গণেশ

ফরাক্কায় দাঁড়িয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে গণেশ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি অরিজিতের গান শুনে বড় হয়েছেন। গায়কের অতি সাধারণ জীবনযাপন এবং মাটির মানুষের মতো চরিত্র তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

দেখা না পেলে কী করবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে অরিজিৎ সিংয়ের এই একনিষ্ঠ অনুরাগী বলেন, “বুকে অনেক আশা এবং একরাশ স্বপ্ন নিয়ে বের হয়েছি। আমার বিশ্বাস, অরিজিৎ স্যারের দরজা আমার জন্য বন্ধ থাকবে না।”

পূর্বে হার্দিক পাণ্ডিয়া, এবার লক্ষ্য প্লেব্যাক সম্রাট

উল্লেখ্য, গণেশের জন্য এই ধরনের দীর্ঘ সাইকেল যাত্রা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও নিজের প্রিয় ক্রীড়াতারকা তথা ভারতীয় ক্রিকেটার হার্দিক পাণ্ডিয়ার সাথে দেখা করতে সাইকেল নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত সফলও হয়েছিলেন। তবে এবার তাঁর মিশন আরও বড়—সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র অরিজিৎ সিং।

গণেশ জানান, তাঁর এক বন্ধু ওড়িশা থেকে ইতিমধ্যেই ট্রেনযোগে জিয়াগঞ্জে পৌঁছে গেছেন এবং সেখানে গণেশের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে তাঁর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময়। তিনি খবর পেয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরেই অরিজিৎ সিং পেশাগত কাজে মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দেবেন। ফলে সোমবার রাতের মধ্যেই যেকোনো মূল্যে তাঁকে জিয়াগঞ্জ পৌঁছাতে হবে।

“সকাল থেকে কড়া রোদের মধ্যে ক্রমাগত সাইকেল চালানোর ফলে পা ভীষণ ব্যথা করছে। শরীরে ভীষণ ক্লান্তি আসছে, কিন্তু থামলে চলবে না। আজ বিকেলের মধ্যেই জিয়াগঞ্জ পৌঁছানোর জন্য আমি সবটুকু চেষ্টা করছি,” ফরাক্কায় দাঁড়িয়ে বলেন গণেশ।

মালদহ থেকে মুর্শিদাবাদ—দুই জেলার সাধারণ মানুষের নজর এখন গণেশের এই আবেগঘন সফরের দিকে। শেষ পর্যন্ত প্রিয় গায়কের সঙ্গে এই তরুণ অনুরাগীর দেখা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

By Tanmay

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।

Leave a Reply

Enable Notifications No Allow