Breaking
16 Sep 2026, Wed

Xi Jinping China Purge: গদি হারানোর ভয় নেই, তাও কেন একের পর এক সেনাকর্তাকে সরাচ্ছেন জিনপিং?

Xi Jinping China Purge: বেইজিংয়ে পিএলএ (PLA)-এর সামরিক কর্মকর্তা ও নেতৃত্বকে পরিদর্শন করছেন শি জিনপিং।

Xi Jinping China Purge নিয়ে তোলপাড় বেজিং। গদি হারানোর ভয় না থাকলেও কেন একের পর এক প্রভাবশালী সেনাকর্তা ও আমলাদের ছাঁটাই করছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং? জানুন বিস্তারিত।

Xi Jinping China Purge এখন বিশ্বরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির (CCP) প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই। সংবিধান ও সেনাবিধি নিজের মতো সংশোধন করে তিনি কার্যত আজীবন প্রেসিডেন্ট পদ নিশ্চিত করেছেন। তা সত্ত্বেও পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র একাধিক শীর্ষ সেনাকর্তা, জেনারেল এবং মন্ত্রীদের কেন বরখাস্ত ও গুম করা হচ্ছে, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।

গালওয়ান কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জেনারেল ঝাও জোংকি বরখাস্ত

ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাতের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেনাকর্তা জেনারেল ঝাও জোংকিকে (General Zhao Zongqi) সম্প্রতি চিনের শীর্ষ রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা (CPPCC) থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ডোকলাম অচলাবস্থা এবং ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনার উপর প্রাণঘাতী হামলার সময় তিনি পিএলএ-র ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কম্যান্ডের শীর্ষে ছিলেন।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্তাদেরও এভাবে পদচ্যুত করা প্রমাণ করে যে Xi Jinping China Purge অভিযান কেবল বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তা সেনাবাহিনীর পুরনো অধ্যায় পর্যন্ত প্রসারিত হচ্ছে।

ঝাও জোংকির পাশাপাশি চিনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (CMC) ভাইস চেয়ারম্যান ঝাং ইউক্সিয়া এবং জয়েন্ট স্টাফ চিফ লিউ ঝেনলির মতো অতি-প্রভাবশালী জেনারেলদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ১০০ জনেরও বেশি শীর্ষ চিনা সামরিক কর্মকর্তা নিখোঁজ বা বরখাস্ত হয়েছেন।

সিআইএ ও পশ্চিমী গোয়েন্দাদের স্ক্যানার: মূল আতঙ্কটা কোথায়?

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) এবং ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনা প্রেসিডেন্ট বিদেশি শক্তির অনুপ্রবেশ ও গোয়েন্দাগিরিকে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক বলে মনে করছেন। বেজিংয়ের ধারণা, পশ্চিমী দেশগুলির স্পাই বা গুপ্তচরেরা পিএলএ এবং পার্টির উচ্চস্তরে প্রবেশ করেছে।

বিষয় পূর্বের নীতি Xi Jinping China Purge-এর বর্তমান নীতি
পরিবারের বিদেশবাস স্বাগত জানানো হতো ও সুবিধাজনক মনে করা হতো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও চাকরি হারানোর কারণ
সেনাকর্তাদের স্বাধীনতা নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও কাজের নিরাপত্তা ছিল সামান্য সন্দেহে বরখাস্ত ও অন্তর্ধান
অবসরপ্রাপ্ত কর্তাদের স্থিতি সামরিক কাজের পর নিরাপদ মনে করা হতো অতীত কাজেরও তদন্ত ও রাজনৈতিক পদ থেকে অপসারণ

কঠোর নির্দেশিকা ও আমলাদের আতঙ্ক

বেজিং এখন নতুন এক নিয়ম জারি করেছে:

  • বিদেশি যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা: পার্টি, সামরিক বাহিনী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্তাদের পরিবার বা সন্তানদের কেউ বিদেশে স্থায়ীভাবে বাস করতে পারবেন না।

  • চাকরি ও পদ হারানোর কোপ: যাদের আত্মীয়স্বজন বিদেশে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত পরিবার ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় রাতারাতি পদচ্যুত করা হচ্ছে।

  • নজরদারি ব্যবস্থা: অর্থনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এবং আমলাদের ওপর চিনের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে।

গদি রক্ষার ভয় নাকি অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ?

সুপরিচিত লোকগাথা ও ছড়ার সেই বিখ্যাত কথা—“যার যত বেশি ধন, তার তত বেশি ভয়, ডাকাতের ভয়ে রাতে ঘুম নাই”—আজকের শি জিনপিংয়ের জন্য একদম সত্যি। আপাতদৃষ্টিতে অসীম ক্ষমতার অধিকারী হলেও, চিনের রকেট ফোর্স ও পদাতিক বাহিনীর মধ্যে দুর্নীতির কারণে তিনি সেনাবাহিনীর ওপর শতভাগ ভরসা রাখতে পারছেন না। এর ফলেই বেজিংজুড়ে চলছে ক্রমাগত ঘাড়ধাক্কা ও নিখোঁজ করার রাজনীতি।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বেজিংয়ের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে বিস্তারিত বুঝতে WION Video Analysis on PLA Purge-এর এই রিপোর্টটি দেখতে পারেন।

এই ভিডিওটিতে শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক সেনা অভিযান এবং ডোকলাম-গালওয়ান সংযোগের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

By Tanmay

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।

Leave a Reply

Enable Notifications No Allow