প্রাণীদের ঘ্রাণশক্তি (animals olfactory sense) কতটা তীব্র? কত দূর থেকে বন্যপ্রাণী মানুষের উপস্থিতি টের পায়, তা জানুন প্রাইম ইনসাইটের বিশেষ প্রতিবেদনে।
প্রাইম ইনসাইট বিশেষ রিপোর্ট — প্রকৃতির রহস্যময় জগতের বন্যপ্রাণীদের ঘ্রাণশক্তি বা animals olfactory sense তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাকৃতিক হাতিয়ার। বনে-জঙ্গলে বা প্রাকৃতিক পরিবেশে চলাচলের সময় মানুষ কোনো প্রাণীকে অনুবাভ করার বহু আগেই প্রাণীটি মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এই শ্রবণ ও ঘ্রাণ ক্ষমতার বিশাল তফাত রয়েছে, যা তাদের শিকার করা, শত্রু এড়ানো এবং বেঁচে থাকার কৌশল নির্ধারণ করে।
মানুষের নাসারন্ধ্রে মাত্র প্রায় ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ ঘ্রাণকোষ থাকে। এর বিপরীতে কুকুর, নেকড়ে, হাতি বা ভালুকের নাসারন্ধ্রে শত কোটি বিশেষায়িত সেন্সরি কোষ বা অলফ্যাক্টরি রিসিভটর অবস্থান করে। বাতাসের গতিপথ, তাপমাত্রা এবং পরিবেশের আর্দ্রতার ওপর ভিত্তি করে একটি প্রাণী বহু কিলোমিটার দূর থেকে মানুষের উপস্থিতি নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পারে।
বিভিন্ন প্রাণীর ঘ্রাণশক্তির তুলনা তালিকা
নিচে প্রধান কয়েকটি প্রাণী মানুষের গন্ধ বা উপস্থিতি কত দূর থেকে টের পেতে পারে, তার এক নজর তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো:
| প্রাণীর নাম | গন্ধ শনাক্তের দূরত্ব | বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য |
| মানুষ | ৩ মিটার | অত্যন্ত সীমিত ঘ্রাণকোষ (প্রায় ৫ মিলিয়ন) |
| বিড়াল | ১৫০ মিটার | উন্নত জ্যাকবসনস অর্গান দ্বারা গন্ধ পর্যবেক্ষণ |
| হরিণ | ৪০০ মিটার | বায়ুবাহিত শিকারী বা মানুষের গন্ধে অত্যন্ত সংবেদনশীল |
| কুকুর | ২ কিলোমিটার | ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি ঘ্রাণকোষের সমন্বয় |
| নেকড়ে | ৩ কিলোমিটার | দলে শিকার ও দীর্ঘ দূরত্বের ট্র্যাকিং ক্ষমতা |
| হাতি | ১৫ কিলোমিটার | সর্বোচ্চ সংখ্যক অলফ্যাক্টরি জিন সমৃদ্ধ নাসারন্ধ্র |
| ভালুক | ৩০ কিলোমিটার | স্থলের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে সর্বাধিক তীব্র ঘ্রাণশক্তি |
প্রজাতিভিত্তিক ঘ্রাণশক্তির বিস্তারিত বিশ্লেষণ
মানুষের সীমাবদ্ধতা ও সাধারণ বন্যপ্রাণী
বিবর্তনের ধারায় মানুষ মূলত দৃষ্টিশক্তি এবং শ্রবণশক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মানুষের নাসারন্ধ্রের ঘ্রাণকোষ কেবল সূক্ষ্মভাবে ৩ মিটার দূরত্বের বাতাস পর্যালোচনা করতে পারে। অন্যদিকে, গৃহপালিত বিড়াল তাদের বিশেষ অঙ্গের সাহায্যে ১৫০ মিটার দূর থেকেই বহিরাগত বা মানুষের উপস্থিতি অনুভব করে।
বনের তৃণভোজী প্রাণী যেমন হরিণ, শিকারী প্রাণী থেকে আত্মরক্ষার জন্য বাতাস বিশ্লেষণ করে। বাতাসে ভেসে আসা মানুষের ঘ্রাণ তারা প্রায় ৪০০ মিটার দূর থেকেই শনাক্ত করে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।
ক্যানাইন প্রজাতি: কুকুর ও নেকড়ে
ক্যানাইন বা কুকুর গোত্রীয় প্রাণীদের সেন্সরি ট্র্যাকিং ব্যবস্থা অসাধারণ:
-
কুকুর: সাধারণ গৃহপালিত বা ট্র্যাকিং কুকুর মানুষের বাতাসের সাথে ভেসে আসা সূক্ষ্ম গন্ধ প্রায় ২ কিলোমিটার দূর থেকে অনুসরণ করতে পারে।
-
নেকড়ে (Wolf): বুনো পরিবেশে বেঁচে থাকা নেকড়েরা প্যাক-হান্টিং বা দলবদ্ধ শিকারের সময় প্রায় ৩ কিলোমিটার দূর থেকে মানুষের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
শীর্ষ ঘ্রাণশক্তির অধিকারী: হাতি ও ভালুক
-
হাতি: জীনগত গবেষণায় দেখা গেছে হাতির নাকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অলফ্যাক্টরি রিসেপ্টর জিন বিদ্যমান। হাতি ভূগর্ভস্থ পানি এবং মানুষের অবস্থান প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকেই সুনির্দিষ্টভাবে টের পায়।
-
ভালুক: স্থলভাগের সমস্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে ভালুকের ঘ্রাণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ। একটি বিশাল আকৃতির ভালুক প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের যেকোনো খাবারের উৎস কিংবা মানুষের গন্ধ পায়।
প্রাণীজগতের বিবর্তন ও সেন্সরি বায়োলজি সম্পর্কিত বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ভিড় করুন National Center for Biotechnology Information ওয়েবসাইটে।

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।
