Breaking
16 Sep 2026, Wed

ED Raid at TMC Office: দিল্লিতে তৃণমূলের সদর দফতরে ইডি হানায় তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ

ED Raid at TMC Office

ED Raid at TMC Office নিয়ে তোলপাড় দিল্লি ও কলকাতা। ৬১ সাউথ এভিনিউয়ের তৃণমূল পার্টি অফিস ও সাংসদ নাদিমুল হকের সংবাদপত্রের ঠিকানায় কেন্দ্রীয় সংস্থার হানা।

নয়া দিল্লি: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল থেকেই দেশের রাজনীতিতে ফের বড়সড় চাঞ্চল্য। একদিকে যখন কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মোহাম্মদ নাদিমুল হকের (Nadimul Haque) পরিচালনাধীন ‘আখবার-ই-মশরিক’ (Akhbar-E-Mashriq) সংবাদপত্রের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ই রাজধানী দিল্লি থেকেও এলো বড় সংবাদ। নয়া দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) সদর দফতরেও পৌঁছে যান এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তদন্তকারী আধিকারিকরা।

কলকাতা, দিল্লি এবং রাঁচি জুড়ে মোট ৭টি স্থানে এই মেগা সার্চ অপারেশন চালাচ্ছে ইডির কলকাতা জোনাল অফিস। বিশেষ করে তৃণমূলের একটি পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকের ঠিক আগেই এই কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তোলপাড়।

৬১ সাউথ এভিনিউ: তৃণমূল পার্টি অফিস এবং ইডির দীর্ঘ অপেক্ষা

নয়া দিল্লির সাউথ এভিনিউ এলাকার ৬১ নম্বর বাংলোটি রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নামে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বরাদ্দ করা। তবে দীর্ঘ দিন ধরেই এই বাংলোটি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় দলীয় কার্যালয় (Party Office) হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলোটির বাইরে দৃশ্যমান তৃণমূলের অফিসিয়াল বোর্ড, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি।

সকাল ৭টা নাগাদ ইডি আধিকারিকদের একটি দল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের (CRPF) নিয়ে ৬১ সাউথ এভিনিউয়ের বাংলোটির সামনে হাজির হন। তবে সেই সময়ে পার্টি অফিসের কর্মচারীরা কেউ এসে পৌঁছননি। মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখে ইডি অফিসাররা বাইরেই অবস্থান নেন। তৃণমূলের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও চাবি না মেলায় দরজার বাইরেই গোয়েন্দারা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।

দিল্লিতে ইডি হানার মূল বিষয়সমূহ:

  • ঘটনাস্থল: ৬১, সাউথ এভিনিউ, নয়া দিল্লি (সাংসদ নাদিমুল হকের নামে বরাদ্দ বাংলো)।

  • ব্যবহার: তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সদর দফতর।

  • অভিযানের সময়: সকাল ৭:০০ টা থেকে।

  • তদন্তের মূল কারণ: আর্থিক অনিয়ম, সন্দেহজনক উৎসের তহবিল ও বেআইনি লেনদেনের নথি সংগ্রহ।

সাংবাদিক বৈঠকের ঠিক আগেই ED Raid at TMC Office: রাজনৈতিক কাকতালীয় নাকি চাল?

যে দিন ও সময়ে এই ইডি অভিযান পরিচালিত হলো, তা নিয়ে জোর রাজনৈতিক তড়জা শুরু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় দিল্লি তৃণমূলের এই সদর দফতর থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল প্রাক্তন সাংসদ তথা দলের মুখপাত্র সাকেত গোখলের।

সংবাদ সম্মেলনের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল কার্যালয় ঘিরে ফেলায় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ—বিরোধীদের চাপ দিতে এবং কণ্ঠরোধ করতেই বেছে বেছে এই সময়টিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের স্পষ্ট দাবি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং আর্থিক অনিয়মের সূত্র মিললেই কেন্দ্রীয় সংস্থা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

কলকাতা ও রাঁচিতে ইডির সমান্তরাল মেগা তল্লাশি

দিল্লির পাশাপাশি কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকাতেও এদিন সকালে সমান্তরাল অভিযান চালায় ইডি। রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক ‘আখবার-ই-মশরিক’ নামক একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী উর্দু সংবাদপত্রের পরিচালন পর্ষদে যুক্ত। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে দায়ের হওয়া একটি এফআইআরের ভিত্তিতে এই মানি লন্ডারিং তদন্ত (PMLA Case) শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

স্থান প্রতিষ্ঠানের নাম / বিবরণ অভিযানের ধরন
পার্ক সার্কাস ও কলকাতা আখবার-ই-মশরিক (উর্দু সংবাদপত্র কার্যালয় ও বাসস্থান) সিআরপিএফ দিয়ে ঘিরে তল্লাশি ও ডিজিটাল নথি পরীক্ষা
সাউথ এভিনিউ, দিল্লি তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি অফিস (বাংলো ৬১) প্রধান ফটকে অবস্থান ও তল্লাশি প্রক্রিয়া
রাঁচি, ঝাড়খণ্ড সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সহযোগী ঠিকানা সম্পর্কিত নথি ও ক্যাশ ট্রেইল স্ক্যান

কলকাতার অফিসে নিরাপত্তার স্বার্থে চারপাশ ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভেতরে এবং বাইরে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। মূলত সংবাদপত্র পরিচালনায় কোনো সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ফান্ড এসেছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কীসের খোঁজে এই মেগা রেড?

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু সন্দেহজনক ব্যাংকিং ট্রানজ্যাকশন এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস স্ক্যানারে আসার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের আড়ালে কোনো বেআইনি মূলধন লেনদেন করা হয়েছিল কি না বা সেই টাকা অন্য রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কিত ডিজিটাল এভিডেন্স এবং নথি বাজেয়াপ্ত করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সংস্থা

সাংসদ নাদিমুল হক বা তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। দিল্লি, কলকাতা ও রাঁচি—তিন রাজ্য মিলিয়ে শুরু হওয়া এই তল্লাশি অভিযানের গতিপ্রকৃতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

By Tanmay

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।

Leave a Reply

Enable Notifications No Allow