Breaking
16 Sep 2026, Wed

কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধ চরম আকার নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০% শুল্কবাণের কড়া জবাব দিয়ে মার্কিন পণ্যে পালটা শুল্ক চাপানোর ঘোষণা কানাডার।

ওয়াশিংটন: কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধ কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের জন্ম দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর আমেরিকার দুই দীর্ঘকালীন মিত্র দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক লড়াই। আমেরিকার তরফ থেকে কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পর কড়া ভাষায় ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই আপস করা হবে না।

“যখন আপনার ওপর হামলা হয়, তখন আপনি যুদ্ধে রয়েছেন। আর আমাদের ওপর এই মুহূর্তে হামলা হয়েছে।”

মার্ক কার্নি, প্রধানমন্ত্রী, কানাডা

কী কারণে শুরু এই সংঘাত?

গত কয়েক মাস ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই এই কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্র রূপ ধারণ করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শনিবার থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ কার্যকর করে। এই শুল্কের আওতায় পড়ছে হকি স্টিক থেকে শুরু করে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত একাধিক কাঁচামাল। কানাডা থেকে আমেরিকায় রফতানি হওয়া মোট পণ্যের প্রায় ৫ শতাংশ এর ফলে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ছে।

২২ মিনিটের এক জাতীয় ভাষণে কার্নি বলেন, আমেরিকা এখন বদলে গেছে এবং তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আর আগের মতো স্থায়ী নয়। “ওদের স্বাক্ষর এখন পেন্সিলে লেখা হয়,” উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে কানাডা আর পুরোনো সম্পর্কের জায়গায় ফিরে যাবে না।

অটোয়ার পালটা শুল্কবাণ

আমেরিকার এই পদক্ষেপের জবাব ডলারে ডলারে বুঝে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কার্নি। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন পণ্যের ওপর কানাডার পালটা শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। কানাডা সরকারের তালিকা অনুযায়ী যেসব মার্কিন সামগ্রীর ওপর শুল্ক চাপানো হচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • দুগ্ধজাত সামগ্রী ও কৃষিজাত পণ্য

  • ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম

  • গৃহস্থালির বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম

  • কৃষি যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স এবং পাল্প ও কাগজ

কেন ভেস্তে গেল দীর্ঘ আলোচনা?

ওয়াশিংটনে তিন দিন ধরে কানাডার বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের মধ্যে ম্যারাথন বৈঠক চলে। কার্নির অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে আমেরিকার তরফ থেকে এমন কিছু নতুন শর্ত দেওয়া হয়, যা মানলে কানাডায় তৈরি গাড়ির ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় কমে যেত। পাশাপাশি, অন্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাণিজ্যচুক্তি করার ক্ষমতা এবং দেশের ভাষা ও সাংস্কৃতিক সুরক্ষাও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

কার্নির বক্তব্য, “ওরা অনেক বেশি চেয়েছিল, কিন্তু বিনিময়ে দিতে চেয়েছিল খুবই কম।” এই অসম শর্ত মানতে অস্বীকার করে অটোয়া তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনা স্থগিত রেখে প্রতিনিধিদলকে দেশে ফিরিয়ে আনে।

মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন কাঠ, ইস্পাত এবং গাড়ির মতো ক্ষেত্রগুলিতে শুল্ক কমানোর ঐতিহাসিক প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু কানাডাই চুক্তিতে রাজি হয়নি। এই দুই দেশের অনড় অবস্থানের ফলে আমেরিকা-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি বা USMCA-র ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

অর্থনীতিতে প্রভাব ও পরিণতি

কানাডা সরকারের ‘স্টেট অব ট্রেড ২০২৬’ রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশটির মোট পণ্য রফতানির প্রায় ৭০ থেকে ৭৭ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া কানাডার সেবা খাতের রফতানির অর্ধেকের বেশি যায় আমেরিকায়। এই অবস্থায় কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উত্তর আমেরিকার সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার পাশাপাশি দুই দেশের বাজারেই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

By Tanmay

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।

Leave a Reply

Enable Notifications No Allow