Breaking
16 Sep 2026, Wed

এস-৫০০ ও সু-৫৭ ভারতে পাঠাতে বড় প্রস্তাব রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। এসসিও সম্মেলনে মোদী-পুতিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিস্তারিত পড়ুন।

বিশকেক (কিরঘিজস্তান): এস-৫০০ ও সু-৫৭ সরবরাহের এক ঐতিহাসিক সামরিক কূটনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে এল রাশিয়া। ভারতের আকাশসীমাকে সম্পূর্ণ অভেদ্য করে তুলতে এবং শত্রুদেশগুলির যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের হাতে তুলে দিতে চান পৃথিবীর অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘এস-৫০০ প্রমিথিয়াস’ (S-500 Prometheus) এবং পঞ্চম প্রজন্মের সর্বাধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান ‘সু-৫৭’ (Su-57)।

সোমবার কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই মেগা অফারটি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

পুতিন-মোদী বৈঠকে এস-৫০০ ও সু-৫৭ প্রস্তাবের গুরুত্ব

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ভারতের সামরিক আধুনিকীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে নিয়ে যায়। অন্তহীন যুদ্ধ থেকে বিশ্বকে শান্তির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ভারত সর্বদা গৌতম বুদ্ধ ও মহাত্মা গান্ধীর শান্তির নীতি মেনে চলে।

এই আলোচনার মাঝেই বিশ্বস্ত মিত্র মস্কোর পক্ষ থেকে ভারতের সামরিক শক্তিবৃদ্ধিতে এস-৫০০ ও সু-৫৭ হস্তান্তরের পূর্ণ সামরিক প্রস্তাবটি টেবিলে রাখা হয়।

এস-৪০০-এর পর এস-৫০০: চিন-পাকিস্তানের দুশ্চিন্তা

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতীয় সীমান্তে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ (সুদর্শন) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কার্যত একা হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ভারতীয় সীমান্ত থেকে ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে শত্রুদেশের কোনো যুদ্ধবিমান বা ড্রোন প্রবেশের সুযোগ পায়নি।

এবার তারই আরও উন্নত ও আধুনিক সংস্করণ এস-৫০০ ভারতের হাতে তুলে দিতে চায় মস্কো। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে যুক্ত হলে প্রতিবেশী পাকিস্তান ও চিনের ওপর ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হবে।

  • অবিশ্বাস্য পাল্লা: এস-৫০০ ব্যবস্থার প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। এটি একই সঙ্গে ১০টি হাইপারসনিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম।

  • মহাকাশ স্তরের সুরক্ষাবলয়: পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (Low-Earth Orbit) থাকা শত্রুপক্ষের উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটকেও নিশানায় আনতে পারে এই ডিফেন্স সিস্টেম।

প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অফার

ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) দীর্ঘদিন ধরেই তাদের স্কোয়াড্রন ঘাটতি মেটাতে একটি শক্তিশালী স্টিলথ বিমানের সন্ধানে রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার সুখোই ডিজাইন ব্যুরোর তৈরি সু-৫৭ বিমানটি জল, স্থল এবং আকাশে যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়ায় ও কঠিন ইলেকট্রনিক যুদ্ধের (Electronic Warfare) পরিস্থিতিতে সমান আঘাত হানতে সক্ষম।

মস্কো কেবল এই প্রস্তুত বিমান ভারতকে রপ্তানি করতে চায় না, বরং ভারতের HAL (Hindustan Aeronautics Limited)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ভারতেই সু-৫৭ তৈরির জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের (Technology Transfer) প্রস্তাব দিয়েছে।

বৈশিষ্ট্যের বিবরণ এস-৪০০ (S-400) এস-৫০০ (S-500)
সর্বোচ্চ প্রতিরোধ পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার ৬০০ কিলোমিটার
টার্গেট টাইপ ফাইটার জেট, ড্রোন ও মিসাইল হাইপারসনিক মিসাইল ও লো-অরবিট স্যাটেলাইট
প্রতিরক্ষা স্তর উচ্চ ও মধ্য উচ্চতার বায়ুমণ্ডল বায়ুমণ্ডল ও স্পেস ডিফেন্স (Space Defence)

কৌশলগত সমীকরণ: ড্রাগনের জে-২০ বনাম ভারতীয় বিমান বাহিনী

বর্তমানে চিনের হাতে ৫০০-রও বেশি জে-২০ (J-20) স্টিলথ ফাইটার রয়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তানও চিনের থেকে জে-৩৫ (J-35) বিমান সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারতের নিজস্ব স্টিলথ প্রজেক্ট ‘AMCA’ সম্পূর্ণ তৈরি হতে এখনও কয়েক বছর বাকি। পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা DRDO-র ‘প্রজেক্ট কুশ’ (Project Kusha)-এর কাজও দ্রুত এগোচ্ছে।

এই মধ্যবর্তী সময়ে রাশিয়া থেকে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের সুরক্ষাবলয় আরও নিছিদ্র হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বর্তমানে রাশিয়ার প্রস্তাবটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। বিশ্ব রাজনীতি এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংবাদের নিয়মিত টাটকা খবরের জন্য নজর রাখুন Prime Insight-এ।

By Tanmay

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।

Leave a Reply

Enable Notifications No Allow