টক্সিক ছবির অগ্রিম বুকিং শুরু হতেই রেকর্ড ভাঙল যশের নতুন সিনেমা। ঘণ্টায় ৮৫ হাজার টিকিট বিক্রি করে বক্স অফিস কাঁপাচ্ছেন কেজিএফ স্টার।
কলকাতা: টক্সিক ছবির অগ্রিম বুকিং শুরু হতেই দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে যে তাণ্ডব শুরু হয়েছে, তা সাম্প্রতিককালের সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেল। অগ্রিম টিকিট বিক্রির দৌড়ে রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিম্যাল’ থেকে শুরু করে ভিকি কৌশলের ‘ধুরন্ধর’—সব সিনেমাকেই যেন এক নিমেষে পেছনে ফেলে দিয়েছেন ‘কেজিএফ’ খ্যাত সুপারস্টার যশ। শুধু তাই নয়, পিছিয়ে পড়েছে হলিউডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্পাইডার-ম্যান’-ও!

অন্ধকার জগৎ, গ্যাংস্টার গাথা কিংবা ক্ষমতার লড়াই সিনেদুনিয়ার পর্দায় একদমই নতুন নয়। তবুও সিনেমার একাধিক প্রচারঝলকে যে অভূতপূর্ব খেলা দেখিয়েছেন কেজিএফ স্টার যশ, তাতে গত মাসখানেক ধরেই পুরো নেটভুবন জুড়ে কেবলই ‘টক্সিক’ চর্চা। আন্ডারওয়ার্ল্ডের অনভিষিক্ত ‘টক্সিক কিং’ রায়া রূপে পর্দায় ধরা দিয়ে রীতিমতো উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছেন এই দক্ষিণী তারকা। আর সেই উত্তেজনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেন প্রতিনিয়ত বেড়েছে বিতর্কের বহরও।
বোমাবাজি, গোলাগুলি আর রক্তক্ষয়ী বারুদের গন্ধে ম-ম করা এই ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ সিনেমার ঝলকে এবার উপরিপাওনা হিসেবে যুক্ত হয়েছে একঝাঁক রগরগে দৃশ্য। বলিউডের কিয়ারা আডবানি, তারা সুতারিয়া থেকে শুরু করে ব্রাজিলিয়ান মডেল-অভিনেত্রী বেয়াট্রিজ টাউফেনবাচের সঙ্গে যশের যে ধরনের খুল্লমখুল্লা শয্যাদৃশ্য টিজারে ফুটে উঠেছে, তা দেখে ভারতীয় সভ্যসমাজ যতই চোখ ঢাকুক না কেন, সিনেমার প্রযোজক ও নির্মাতাদের কিন্তু ‘পোয়া বারো’।
ঝলকে চোখ ধাঁধানো সব মুহূর্ত দেখে দর্শকমহলের একাংশ আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, যশের এই মেগাবাজেট অ্যাকশন থ্রিলার ছবি বক্স অফিসে ‘অ্যানিম্যাল’ বা ‘ধুরন্ধর’-এর মতো সিনেমাগুলোকেও টেক্কা দেবে। শুক্রবার সকালে বুকিং কাউন্টার খুলতেই সেই কথা যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল।
যশের এই ‘রক্তস্নাত সার্কাসে’র ঝলক দেখে যেকোনো সাধারণ দর্শকের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমস্রোত বইতে বাধ্য। এটি কোনো সাধারণ ভালো মানুষের গল্প নয়; বরং অপরাধ জগতের অন্ধকারে থেকে সাম্রাজ্য চালানো এক নিষ্ঠুর গ্যাংস্টার ‘রায়া’র গল্প। সিনেমাটির নাম ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ (Toxic: A Fairy Tale for Grown-Ups) এবং এর প্রথম টিজারেই নির্মাতারা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে এই সর্বনাশী খেলার প্রতিটি উপাদানই একান্তভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য।
শুক্রবার সকাল ৮টায় হিন্দি সংস্করণের জন্য অনলাইন বুকিং শুরু হতেই নিমেষের মধ্যে ধস নামে দেশের বড় বড় টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে। দেশের শীর্ষ তিন সিনেপরিবেশক চেইন—পিভিআর (PVR), আইনক্স (INOX) এবং সিনেপলিস (Cinepolis)-এ প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৩০ হাজারেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।
দেশের মেটোপলিটন সিটিগুলোতেও সিনেমাটিকে ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। বাণিজ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেশজুড়ে গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৮৫ হাজার টিকিট বিক্রি হচ্ছে! প্রথম দিনেই সাড় ৪ কোটি টাকা আয় করে ফেলেছে এই সিনেমা। সিনে-বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনিং ডে-তেই বক্স অফিসে ইতিহাস গড়তে চলেছে যশের এই কামব্যাক প্রজেক্ট।

বাণিজ্যিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মুক্তির প্রথম দিনে শুধুমাত্র হিন্দি বলয়েই ৫৫ থেকে ৬০ কোটি টাকার রেকর্ড ব্যবসা করতে পারে ‘টক্সিক’। এমনকি প্রথম ৬ ঘণ্টার বুকিংয়ের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, এটি অতীতে বাম্পার ওপেনিং করা ‘টাইগার ৩’, ‘অ্যানিম্যাল’, ‘ধুরন্ধর’ এবং হলিউডের ‘স্পাইডার-ম্যান’-এর মতো ব্লকবাস্টার রিলিজগুলোকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। এই তুমুল সাফল্যের পেছনে যেমন রয়েছে হলিউড স্টাইলের হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন, তেমনই রয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী সাহসী ও বিতর্কিত চিত্রনাট্য।
গীতুমোহন দাস পরিচালিত এই সিনেমার প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে নয়ের দশকের গোয়াকে কেন্দ্র করে। যেখানে মাফিয়া চক্র, আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং ক্ষমতার নির্মম লড়াইয়ে তৈরি হয় এক অন্ধকার সাম্রাজ্য। মূলত কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় শুট করা হলেও এটি একই সাথে হিন্দি, তেলুগু, তামিল ও মালয়ালম ভাষায় প্যান-ইন্ডিয়া লেভেলে মুক্তি পাচ্ছে।
ছবিতে কিয়ারা আডবানি, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ছাড়াও দেখা যাবে দক্ষিণের লেডি সুপারস্টার নয়নতারা এবং রুক্মিণী বসন্তকে। একঝাঁক প্রথম সারির তারকা এবং ধুন্ধুমার অ্যাকশনের মেলবন্ধনে টক্সিক ছবির অগ্রিম বুকিং যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে উত্তর থেকে দক্ষিণ—সমগ্র ভারতের বক্স অফিস যে যশের দখলে যেতে চলেছে, সে বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।
