Modi Economy Policy Impact: টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের কারণে মোদী জমানায় ভারতের মাথা পিছু আয় ১০% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।
Modi Economy Policy Impact নিয়ে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতদিন পর্যন্ত যারা ভাবতেন নরেন্দ্র মোদীর শাসনামলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হলেও ভারতীয় অর্থনীতির উন্নতি হচ্ছে, তাঁদের জন্য এই গবেষণা একটি বড় ধাক্কা। টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির (Texas Tech University) রাজনৈতিক বিজ্ঞানী কেভিন গ্রিয়ার (Kevin Grier) এবং রবিন গ্রিয়ার (Robin Grier)-এর একটি নতুন গবেষণা দেখায় যে, মোদী জমানায় ভারতের মাথা পিছু আয় (Per Capita Income) সম্ভাব্য হারের চেয়ে অন্তত ১০ শতাংশ কম হয়েছে।
‘আচ্ছে দিন’ ও ‘উন্নত ভারত’-এর আড়ালে কি বড় ব্যর্থতা?
সমগ্র ভারতজুড়ে নরেন্দ্র মোদীকে ঘিরে এক ধরনের ক্লান্তি বা অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর ফলে একটি মৌলিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—‘আচ্ছে দিন’, ‘নিউ ইন্ডিয়া ২০২২’ এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর মতো চটকদার স্লোগানের আড়ালে কি সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়েছেন?
গবেষকদের মতে, মনমোহন সিং-এর UPA, অটল বিহারী বাজপেয়ীর NDA, এমনকি ইউনাইটেড ফ্রন্ট (United Front) জোট সরকারের আমলের চেয়েও মোদী জমানায় শাসনব্যবস্থার মান এবং মাথা পিছু আয়ের বৃদ্ধি অনেক খারাপ হয়েছে।
সাধারণত, কিছু ভোটার একজন ‘শক্তিশালী নেতা’র (Strongman Bargain) প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে এই আশায় যে, প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলেও অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুত হবে। কিন্তু মোদী জমানায় ভারত দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—প্রতিষ্ঠানও দুর্বল হয়েছে, আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও শ্লথ হয়েছে।
‘সিন্থেটিক ইন্ডিয়া’ মডেল এবং Modi Economy Policy Impact
গবেষকরা ‘Synthetic Control Method’ নামক একটি স্বীকৃত পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। তাঁরা অন্যান্য সমসাময়িক বিকাশমান অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে “সিন্থেটিক ইন্ডিয়া” (Synthetic India) নামক একটি কাল্পনিক কিন্তু গাণিতিকভাবে নির্ভুল কাউন্টারফ্যাক্টাল (Counterfactual) মডেল তৈরি করেছেন।
দীর্ঘ ৩০ বছরের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই মডেলটি দেখায় যে, ২০১৪ সালের পর ভারতের অর্থনীতি কেমন হওয়া উচিত ছিল। গবেষণার দুটি মূল সিদ্ধান্ত:
-
প্রতিষ্ঠানসমূহের পতন: উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সূচকেই মোদী জমানায় ভারতের অবস্থান দ্রুত নিচে নেমেছে।
-
মাথা পিছু আয়ে ব্যাপক ক্ষতি: ২০২৩ সালে ভারতের মাথা পিছু আয় যা হতে পারত, তা থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কম হয়েছে। বিশ্বজুড়ে একনায়কতান্ত্রিক বা পপুলিস্ট নেতাদের ক্ষেত্রে ১৫ বছর মেয়াদে জিডিপি ১০% কমে যাওয়ার যে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান রয়েছে, এটি তার সাথেই হুবহু মিলে যায়।
গবেষণাপত্রটি বিস্তারিত পড়ার জন্য Texas Tech University-র গবেষণা সূচক এবং বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের সূচক মূল্যায়নের জন্য V-Dem Institute-এর রিপোর্ট দেখুন।
গণতান্ত্রিক অবক্ষয় এবং দেশের বিপুল আর্থিক ক্ষতি
যদিও কোনো গবেষণাকেই চূড়ান্ত সত্য বলা যায় না এবং পরিসংখ্যান সংক্রান্ত নানা বিতর্ক সামাজিক বিজ্ঞানে স্বাভাবিক, তবুও V-Dem-এর মতো ৩টি পৃথক আন্তর্জাতিক সমীক্ষা ভারতের গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের একই চিত্র তুলে ধরেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব, বিরোধী দলগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করার মতো বিষয়গুলো ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে।

বিজেপি সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, এই ১০ শতাংশ মাথা পিছু আয় কমে যাওয়ার অর্থ হলো গত এক দশকে ভারতের প্রায় ২.৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের (Notional Loss) সম্ভাব্য ক্ষতি হয়েছে। ২০২৩ সালে ভারতের বর্তমান জিডিপি ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সাথে তুলনা করলে এই ক্ষতির পরিমাণ সহজে অনুধাবন করা যায়।
আজ ভারতকে ‘বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি’ বলা হলেও, বাস্তব সত্য হলো UPA আমলের চেয়ে মোদী আমলে গড় অর্থনৈতিক বৃদ্ধি কম ছিল। নোটবাতিলের (Demonetisation) মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের কারণে অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও পারিবারিক সঞ্চয় এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।
সাবেক মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যমের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার কিছুটা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী, মধ্যবিত্ত ও কৃষকদের ক্ষোভ আজ স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, Modi Economy Policy Impact ভারতের প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতি—উভয়কেই গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
(লেখক: অমিতাভ দুবে, কংগ্রেস দলের সদস্য। টুইটার: @dubeyamitabh। মতামত ব্যক্তিগত।)

তন্ময় ‘প্রাইমইনসাইট’ (PrimeInsight)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক। কলকাতা-ভিত্তিক একজন উৎসাহী ব্লগার ও স্বতন্ত্র ভাষ্যকার হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তীক্ষ্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সঙ্গীত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি—এই ক্ষেত্রগুলোতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইন্দ্রজিৎ তাঁর লেখায় সাংস্কৃতিক উপলব্ধির সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটান। জাতীয় ও বৈশ্বিক ঘটনাবলির সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর লেখায় কলকাতার বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সত্তার প্রতিফলনও ফুটে ওঠে।
